দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হবে না। জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জোটের সমন্বয়ক ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ১১ দলীয় ঐক্য এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।
তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও বিষয়টির বিরোধিতা করেছিলেন। ১১ দলীয় ঐক্য সংস্কারের পথ এড়িয়ে সংশোধনের নামে এ কমিটি গঠনের উদ্যোগকে ধারণাগতভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ১১ দলীয় ঐক্য ওই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা সংবিধান সংশোধনের কোনো উদ্যোগকে ধারণাগতভাবে সমর্থন করবেন না। বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাতেও সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম ও গণভোটের লক্ষ্যও ছিল রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার। তাই এখন সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে শুধু সংসদীয় সংশোধনের পথে যাওয়া উচিত নয়।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। গণভোটে জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ওই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে মত দেয়নি, বরং সংস্কার বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকেও অনুমোদন দিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। একই সময়ে জামায়াত ও তাদের শরিক দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংসদ বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে গঠিত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভিত্তি জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা বা ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংসদ সৃষ্টি করে, সংসদ সংবিধান সৃষ্টি করে না।’ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। তাই জনগণ গণভোটের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়া অনুমোদন করে থাকলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা উচিত।
এমএম/